ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের জন্য যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৭:১৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১১:১৭:১৬ পূর্বাহ্ন
গ্যাসের জন্য যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে গ্যাসের সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। গ্যাস নিতে বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পের বাইরে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। 

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, রমনা ও শাহবাগ এলাকার কয়েকটি সিএনজি পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল হওয়ার আগেই এ সব এলাকার বিভিন্ন পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়।

মতিঝিলের একটি পাম্পে ভোরে গাড়ি নিয়ে আসেন প্রাইভেটকার চালক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, গ্যাস নেওয়ার জন্য সকাল ৫টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কখন গ্যাস পাবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন। তার অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় অনেক কম পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

গ্যাস নিতে আসা আরেক চালক নাসির উদ্দিন জানান, একটি পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখে অন্য পাম্পে যান। সেখানেও একই পরিস্থিতি দেখতে পান। শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে গাড়িতে গ্যাস নিতে হয়েছে।

শাহবাগের একটি পাম্পে অপেক্ষমাণ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রুবেল বলেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে থাকায় সময় নষ্ট হচ্ছে। একদিকে যাত্রী পরিবহনের সময় কমছে, এতে আয় কমে যাচ্ছে। 

রমনা এলাকার একটি পাম্পে কথা হয় ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মাহবুবের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে গ্যাস নেওয়া যেত, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

মতিঝিলের একটি সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করারা শর্তে বলেন, পাম্পে পর্যাপ্ত গ্যাস ও চাপ থাকলে একসঙ্গে অনেক গাড়িতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও গ্যাস দেওয়ার গতি কমে যাচ্ছে। এ কারণে পাম্পের সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ শুরু হওয়ায় সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে। একই সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসের সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ কমে যায়। 

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ